9newstv
সত্য প্রকাশে জাগ্রত আমরা

হোমনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে বিএমএসএফ হোমনা উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু রায়হান চৌধুরীর ওপর হামলা

0

হোমনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে বিএমএসএফ হোমনা উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু রায়হান চৌধুরীর ওপর হামলা, কার্যালয় ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধ কুমিল্লা

কুমিল্লার হোমনায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) হোমনা উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক মো. আবু রায়হান চৌধুরীর ওপর হামলা, মারধর, কার্যালয়ে ভাঙচুর, মুঠোফোন ক্ষতিসাধন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মদিনা চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ভবনে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু রায়হান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। তিনি হোমনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি, হোমনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্নের প্রচার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) হোমনা উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সাংবাদিকতা, গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪১ মিনিটে আবু রায়হান চৌধুরী তাঁর কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার, রনি মিয়া ও তাঁদের কয়েকজন সহযোগী সংঘবদ্ধভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, কার্যালয়ে ঢুকেই অভিযুক্তরা সাংবাদিক আবু রায়হান চৌধুরীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শারীরিকভাবে আহত করা হয়। একই সঙ্গে কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ভেঙে ফেলা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা সংবাদ প্রত্যাহার অথবা প্রকাশিত তথ্যের প্রমাণ প্রদর্শনের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবু রায়হান চৌধুরী বলেন,
“সাংবাদিকতা আমার পেশা, আর জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা আমার দায়িত্ব। কোনো সংবাদে কারও আপত্তি থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একজন সাংবাদিকের কার্যালয়ে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন আঘাত। এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার ও রনি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেও কোনো ধরনের মারধর বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা, কার্যালয় ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে মুক্ত সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.