দিঘীনালার বোয়ালখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের দুই নেতার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা

দিঘীনালার বোয়ালখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের দুই নেতার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার বোয়ালখালী ইউনিয়নে ছাত্রদলের দুই নেতার লাগামহীন চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা। ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাসুদুল ইসলাম শরীফ (পিতা: মো. মিয়া, গ্রাম: থানাপাড়া) এবং অর্থ সম্পাদক মো. পারভেজ আলম (পিতা: নুর মোহাম্মদ, গ্রাম: থানাপাড়া)-এদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি এবং নিয়মিত চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই দুই ছাত্রনেতা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী—বিশেষ করে গাছ, মাছ ও পান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া কিংবা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
গাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে দাবি
স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী সোহান বলেন,
“শরীফ ও পারভেজসহ আরও কয়েকজন মিলে এলাকায় গাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। আমি গাছের গাড়ি রাস্তায় চালালে তারা এসে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে বলে, ‘তোর নামে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিবো।’ আমরা ভয়েই টাকা দেই।”
আরও কয়েকজন গাছ ব্যবসায়ী জানান, শরীফ ও পারভেজ নিজেদের প্রভাব দেখিয়ে প্রতিটি গাছের গাড়ি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে। অনেক সময় এই টাকা না দিলে গাড়ি থামিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আটক রাখে।
মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ
মাছ ব্যবসায়ী সুমন বলেন,
“আমাদের এলাকায় মঙ্গলবারে হাট বসে। হাটে তারা আমার দোকানে আসে, মাছ নিয়ে যায় কিন্তু দাম দেয় না। উল্টো বলে, ‘আমরা ছাত্রদলের নেতা, আমাদের পেছনে বড় নেতা আছে, কথা বললে এলাকায় থাকতে পারবি না।’ মাঝে মাঝে সরাসরি দোকান থেকে টাকা নিয়েও চলে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “এই দুইজনের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। প্রশাসনও নীরব।”
পান ব্যবসায়ীদের কাছেও চলছে চাঁদাবাজি
পান ব্যবসায়ী এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“আমি পাহাড়ি এলাকা থেকে পান এনে বিক্রি করি। অনেক সময় রাতে গাড়ি আসে। তখন শরীফ ও পারভেজ রাস্তার মধ্যে গাড়ি আটকায়, টাকা ছাড়া গাড়ি ছাড়ে না। বাধ্য হয়ে তাদের চাহিদা মতো টাকা দিতে হয়। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের কারণে এখন অনেকেই রাতে আর পান আনতে চায় না। পুরো এলাকা এক ধরনের ভয়ে আছে।”
বিদেশ ফেরার পর চাঁদাবাজি শুরু
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
“শরীফ কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে। ৫ আগস্টের পর এলাকায় এসে চাঁদাবাজি শুরু করে। এখন সে আর পারভেজ মিলে এলাকায় এক ধরনের ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছে। এলাকার মানুষ তাদের হাতে অতিষ্ঠ।”
এ বিষয়ে জানতে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দলীয় এক মধ্যম পর্যায়ের নেতা বলেন,
“এমন অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি দুঃখজনক। বিএনপি চাঁদাবাজি সমর্থন করে না। বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে যাচাই করা প্রয়োজন।”
ব্যবসায়ীদের দাবি: দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে এলাকার বাণিজ্যিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
এক ব্যবসায়ী বলেন,
“প্রতিদিন চাঁদা দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত। এখন প্রশাসন যদি হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে ব্যবসা করাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয়দের আহ্বান
এলাকাবাসী প্রশাসন ও দলীয় উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন দ্রুত এই দুই নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মতে, কয়েকজনের অপকর্মে পুরো সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ছাত্রদলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে।