
সাভারের অবশেষে দখলমুক্ত বংশী নদী
মোঃমনির মন্ডল,সাভারঃ
সাভারের বংশী নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠেছিল বহু অবৈধ স্থাপনা। তীর দখলের ফলে নদীটি হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক গতিপথ, দূষিত হয়ে
পরে নদীর পানি এবং এর আশেপাশের পরিবেশ। স্বাধীনতার পর থেকে দখলমুক্ত করতে তেমন কোনো পদক্ষেপ না থাকলেও সম্প্রতি সাভার উপজেলা প্রশাসন বংশী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।
এতে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে নদী পাড়ে বসবাসরত মানুষ। বর্তমানে বংশী নদী অবৈধ দখলমুক্ত। তবে এই দখলমুক্ত অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে ও টেকসই করতে নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল দপ্তরকে কাজ করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৩৩৪০/২০১৯ নং রিট মামলার আলোকে বংশী নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখার জন্য ৬০ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বংশী নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়। পরে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুইদিন নদী তীরবর্তী প্রায় ২ একর নদীর জায়গা ও ১ একর খাস জায়গা উদ্ধার করা হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর এ
উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয় বিআইডব্লিউটিএ।
পরে ৩০ ও ৩১ সেপ্টেম্বর প্রায় ২ একর নদীর জায়গা এবং ৩ একর খাস জায়গা উদ্ধার করা হয়। মোট ৪ দিন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বংশী নদীর তীরবর্তী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং ২৮৬ জন অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৪ একর নদীর জায়গা এবং প্রায় ৪ একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়।
আরও জানা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাভার উপজেলা প্রশাসন, সাভার পৌরসভা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পল্লী বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বংশী নদীর তীরবর্তী অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান হয়। এ উচ্ছেদ অভিযানে সাভার উপজেলার নাগরিক কমিটি পরিবেশবাসী কমিটি, সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সকল স্তরের জনগণ সর্বাত্মক সহযোগিতা করে।
উচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসন, ঢাকা, বিআইডব্লিউটিএ ও উপজেলা প্রশাসন, সাভারের যৌথ উদ্যোগে বংশী নদীর সীমানা চিহ্নিত করা হয় এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নদীর সীমানা সম্পূর্ণভাবে আলাদা করা হয়।
সরেজমিনে বংশী নদীর সাভার নামাবাজার ও নয়ারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, নদীটি এখন পুরোপুরি দখলমুক্ত রয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে নদীর তীর। ময়লা আর্বজনা অপসারনের জন্য কর্মীরা কাজ করছে
। বংশী নদী পারের বাসিন্দা রহমান ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে দাঁড়িয়ে থাকা যেত না। এখন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়ায় নদীটি দেখতেও ভালো লাগছে। সোহরাব মিয়া বলেন, বংশী নদী অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে তবে পানি দূষণমুক্ত
করাটা জরুরি। নদীর যে অংশটুকু উদ্ধার করা হয়েছে তা দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। নদী পুনরায় দখল হবে না এমন প্রত্যাশা আমাদের সবার।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেছি। ভূমি জরিপের মাধ্যমে সেখানে হাট-বাজার ও নদীর জমি যাছিল তা পৃথক করা হয়েছে। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাঁটাতারের মাধ্যমে সীমানা করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, নদী একটি চলমান সড়ক। নদী একটি প্রবাহমান পানির ধারা। নদী যদি আমরা ভরাট করি বা দখল করি তাহলে নদী সংকুচিত হয়ে যায়।
এতে পানি প্রবাহ বাধা সৃষ্টি হয় এবং পরিবেশর ওপর বিরূপ প্রভাব পরে। নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন এই নদী দখল মুক্ত করতে অনেক কাজ করেছে।
তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি বিগত দের বছর ধরে দেখছি। কিন্তু আবারও অবৈধ দখলদাররা আসছে দখল করতে। এইগুলো বন্ধ করতে আমাদের সবার একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।